মঙ্গলবার । ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২

নড়াইলে চারজনকে কুপিয়ে হত্যায় গ্রেপ্তার ৬, দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল

আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে নড়াইল সদর উপজেলার শিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে বাবা-ছেলেসহ চারজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ছয়জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিহত চারজনের ময়নাতদন্ত শেষে বিকাল ৪ টায় শিঙ্গাশোলপুর এলাকায় তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সদরের তারাপুর গ্রামের আমিন শিকদারের ছেলে বনি শিকদার (৩৩), বড়কুলা গ্রামের মৃত লালন ফকিরের ছেলে হালিম ফকির (৬০), কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের তুজাম মোল্যার ছেলে তুফান মোল্যা (৩০), তারাপুর গ্রামের রুহুল মোল্যার ছেলে সদয় মোল্যা (৩৬), তৈয়ব শিকদারের ছেলে লাজুক ওরফে সূর্য্য শিকদার (৩২) এবং সবুর মোল্যার ছেলে জসিম মোল্যা (৩০)।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বনি শিকদারকে, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ হালিম ফকিরকে এবং সদর থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে তুফান মোল্যা, সদয় মোল্যা, লাজুক ওরফে সূর্য্য শিকদার ও জসিম মোল্যাকে আটক করে। আটক ছয়জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. খায়রুজ্জামান ওরফে খায়ের মোল্যার পক্ষের রহমত হোসেনের লোকজনের সঙ্গে খলিল শেখের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছিল। নিহতরা মূলত তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও প্রায় ৯-১০ বছর আগে গ্রাম্য মারামারি এড়িয়ে পাশের বড়কুলা গ্রামে বসবাস শুরু করেন। তবে স্থান পরিবর্তন করেও বিরোধ থামেনি। এর জের ধরে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে বড়কুলা এলাকায় দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন খলিল শেখ (৭০), তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ (৪১) ও ফেরদাউস হোসেন (৪০)। গুরুতর আহত অবস্থায় নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওসিকুর ফকির (৩৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নিহতদের মধ্যে খলিল, তাহাজ্জত ও ফেরদাউস একই পক্ষের এবং ওসিকুর ফকির প্রতিপক্ষের সদস্য বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আটজন নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের ৭-৮টি বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েকটি ঘরবাড়ি পুড়ে যায় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত খলিল শেখের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম অভিযোগ করেন, সাহরি খাওয়ার পর ঘুমানোর প্রস্তুতির সময় প্রতিপক্ষের ৫০-৫৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা খলিল শেখ ও তার ছেলে তাহাজ্জত শেখকে ঘর থেকে বের করে এনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। একই সময় ফেরদাউস হোসেনকেও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বলেন, “হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

খুলনা গেজেট/এমএনএস




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন